
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার মামলায় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারের পর আখতারুজ্জামানকে প্রথমে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে বিমানবন্দর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়। মামলায় সরকারি কাজে বাধা, আঘাত করা, অপরাধমূলক শক্তি প্রয়োগ, ইচ্ছাকৃত অপমান ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে মদিনা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটটি ঢাকায় আসে। লাগেজ বেল্ট নম্বর ৮-এ ট্রলির সংকট দেখা দিলে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা তৈরি হয়।
ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের অনুরোধে পরিস্থিতি দেখতে সেখানে যান বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ।
পুলিশের ভাষ্য, পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করার সময় আখতারুজ্জামান তাঁর দিকে এগিয়ে যান। এ সময় তাঁকে ‘আমি কিন্তু পিটাবো ধইরা’ এবং ‘ঘাড় ধরে বের করে দিবো’ এ ধরনের কথা বলার অভিযোগ করা হয়েছে। মামলায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রীর বিষয়ে অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগও রয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা প্রটোকল সহকারীরা বিমানবন্দরের সংরক্ষিত কেপিআই এলাকায় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। নিরাপত্তা বিভাগের সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন তাঁদের ভিডিও করতে নিষেধ করেন। এতে আখতারুজ্জামান ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, সাধারণ যাত্রীদের বোতলজাত পবিত্র জমজমের পানি নষ্ট করা হয়। একই সঙ্গে বিমানের এক প্রতিনিধির সঙ্গেও আক্রমণাত্মক আচরণ করা হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আখতারুজ্জামানের বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে। তিনি ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগের সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদের কাছে পরাজিত হন। ২০২৪ সালের নির্বাচনেও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন।
আখতারুজ্জামান একসময় কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন। দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তাঁকে পঞ্চমবারের মতো বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর বিভিন্ন টক শো ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমসাময়িক নানা বিষয়ে তাঁকে কথা বলতে দেখা যায়। গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।



